বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে লিরিক্স | Bagichay Bulbuli Tui | কাজী নজরুল ইসলাম | Bangla Song Lyrics
গান পরিচিতি:
কাজী নজরুল ইসলামের ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে রচিত “বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে” একটি জনপ্রিয় বাংলা গজল ও নজরুলগীতি। ১৯২৬ সালে কাজী নজরুল ইসলাম তখন কৃষ্ণনগরে পরিবারসহ অবস্থান করছিলেন। সেই সময় তাঁর দ্বিতীয় পুত্র অরিন্দম খালেদ বুলবুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের জন্য নজরুল কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রেলগাড়িতে যাত্রাকালীন সময়ে তিনি একটি ছাপা বিজ্ঞাপনের কাগজের উল্টো পিঠে পেনসিল দিয়ে এই গজলটি রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়াই তিনি গানটি আনমনে লিখেছিলেন। নিচে গানের সম্পূর্ণ লিরিক্স ও সংক্ষিপ্ত অর্থ তুলে ধরা হলো।
গীতিকার: কাজী নজরুল ইসলাম
সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
ধরণ: নজরুলগীতি / বাংলা গজল
রচনা কাল: ১৯২৬
প্রথম প্রকাশ: ১৯২৮
দিসনে আজি দোল
আজো তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি
তন্দ্রাতে বিলোল
আজো হায় রিক্ত শাখায় উত্তরী বায়
ঝুরছে নিশিদিন
আসেনি দখনে হাওয়া গজল গাওয়া
মৌমাছি বিভোল
কবে সে ফুল-কুমারী ঘোমটা চিরি
আসবে বাহিরে
শিশিরের স্পর্শসুখে ভাঙবে রে ঘুম
রাঙবে রে কপোল
ফাগুনের মুকুল – জাগা দুকুল ভাঙ্গা
আসবে ফুলের বান
কুড়িদের ওষ্ঠপুটে লুটবে হাসি
ফুটবে গালে টোল
কবি তুই গন্ধে ভুলে ডুবলি জ্বলে
কুল পেলিনে আর
ফুলে তোর বুক ভরেছিস আজকে জলে
ভরবে আখির কোল
গানের অর্থ:
এই গানটিতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রকৃতির রূপকের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ করেছেন। বুলবুলি এখানে প্রিয়জনের প্রতীক, আর ফুলের শাখা জীবনের সৌন্দর্য ও ক্ষণস্থায়ীত্বকে বোঝায়। কবি তার প্রিয়জনকে কাছে ডাকছেন, কিন্তু দূরত্ব ও না-পাওয়ার কষ্ট গানের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে। এই গান মূলত প্রেম, অপেক্ষা এবং হৃদয়ের ব্যথাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।
[তথ্যসমূহ উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সংক্ষেপ ও পুনর্লিখিত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।]