আর্টসেল এমন একটা ব্যান্ড যাদের গানের কথাগুলো খুব মোহনীয়, গানের কথায় জীবন আছে, যৌবন আছে, প্রেরণা আছে, ভালোবাসা আছে। আমাদের জীবনের ঘাত প্রতিঘাত বা অস্তিত্বহীণতায় ভোগা কিংবা বিষণ্ণতায় ডুবে থাকা অথবা করিডোর ধরে বিষণ্ণ মনে একা একা হেঁটে যাওয়া মানুষের জন্য আর্টসেলের গানে আছে জীবনকে হাতের মুঠোয় পুরে যেমন ইচ্ছে তেমন করার আহবান। আর্টসেল একটা শুধু নিছক ব্যান্ড নয়, আর্টসেল একটা শিল্প। শুধু গানের লিরিক্স না, আর্টসেল তাদের গানের সুরে কম্পোজিশনে তথা যন্ত্রসংগীতে মানুষকে মোহাচ্ছন্ন করে ফেলতে পারবে। কিছুদিন আর্টসেল শুনতে থাকলে মনে হবে তাদের গানের সুরও যেন কিছু বলতে চায়।
যদি বলা হয়, আর্টসেল কেনো এত জনপ্রিয়? কারণ আর্টসেল জনপ্রিয়তার যোগ্য। স্রেফ হু হা করে, দু-চারটে সস্তা আবেগী গানের কথা লিখে মার্কেট পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু এ সমাজের যে বিরাট অংশটি গভীর জীবনবোধ আর গভীর আবেগের প্রতি স্পর্শকাতর, সে অংশটির অকুন্ঠ সম্মান পাওয়া যায় না।
প্রেম, দ্রোহ, বিপ্লব, জীবন ও যৌবন - আর্টসেল হল এই শব্দগুলোর মিলিত রূপ।
আর্টসেল ব্যান্ড গঠনের ইতিকথাঃ
এক ইন্টারভিউতে ব্যান্ডের নাম আর্টসেল রাখার কারণ প্রসঙ্গে জিগ্যেস করা হলে তাদের বক্তব্য- "যদিও আমরা হেভি মেটাল ব্যান্ড হিসেবে শুরু করেছিলাম, তবু হেভি মেটাল নাম চাইনি। আমরা হেভি মেটাল এর সাথে একটা কোমল এবং শৈল্পিক ছোঁয়া চেয়েছিলাম। ‘দেহকোষ যেখানে শিল্প সৃষ্টি হয়’- এটাই আমাদের ব্যান্ডের নামকরণের পেছনে মূল আইডিয়া ছিল। এরশাদ আর্টসেল নামটা সাজেস্ট করে এবং আমরা সকলে তা সমর্থন করি।"
আর্টসেল লাইনআপঃ (অরিজিনাল লাইনআপ)
লিংকন ডি কস্তা - ভোকাল ও গিটারিস্ট
এরশান জামান - লিড গিটার
সাইফ আল নাজি সেজান - বেজ গিটার
কাজী সাজ্জাদুল আশেকীন সাজু - ড্রামার
প্রয়াত তরিকুল ইসলাম রুপক - লিরিসিস্ট
রুম্মান আহমেদ - লিরিসিস্ট
এক নজরে আর্টসেলঃ
ব্যান্ড গঠনঃ ২৩ অক্টোবর ১৯৯৯
প্রথম সিঙ্গেল গানঃ অদেখা স্বর্গ
প্রথম এ্যালবামঃ অন্যসময় (২০০২)
প্রথম এ্যালবামঃ অন্যসময় (২০০২)
দ্বিতীয় এ্যালবামঃ অনিকেত প্রান্তর (২০০৬)
এরপর প্রায় ১০ বছর পর আর্টসেল ২০১৬ সালে তাদের নতুন গান "অবিমৃষ্যতা" মুক্তি দেয়। এরপরে নিজেদের মধ্যকার কিছু সমস্যার কারণে ব্যান্ডের বাকি তিন সদস্য লিড গিটারিস্ট এরশাদ জামানের সাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। আর এভাবেই আর্টসেলের চার সেলের মধ্যে একজনের বিদায় হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কাজী ফয়সাল আহমেদ লিড গিটারিস্ট হিসেবে যোগদান করেন।
![]() |
| ডান থেকে- লিংকন, এরশাদ, সেজান, সাজু | ছবিঃ সংগৃহীত |
অন্যসময় (২০০২) ঃ
১. "অন্য সময়"
২. "ভুল জন্ম"
৩. "পথ চলা
৪. "রূপক (একটি গান)"
৫. "মুখোশ"
৬. "রাহুর গ্রাস"
৭. "ইতিহাস ( সময় ও অদৃষ্ট)"
৮. "কৃত্রিম মানুষ"
৯. "অবশ অনুভূতির দেয়াল"
১০. "অলস সময়ের পাড়ে"
জি-সিরিজ থেকে ২০০২ সালে দেশ সেরা মেটাল ব্যান্ড আর্টসেল প্রকাশ করে তাদের প্রথম অ্যালবাম হল "অন্য সময়"। এই অ্যালবামটি হেভি মেটাল শ্রোতাদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছিল। এই অ্যালবাম বাংলাদেশে প্রগতিশীল মেটাল ব্যান্ড সঙ্গীত জগতে দারুন বিকাশে সাহায্য করেছে।
অন্যসময় এ্যালবামে মোট গানের সংখ্যা ১০টি যেখানে আর্টসেলের ভোকাল লিঙ্কন "রাহুর গ্রাস" গানটি লিখেছিল; "কৃত্রিম মানুষ" গানটি লিখেছিল বেজিস্ট সেজান; "অবশ অনুভুতির দেয়াল" গানটি লিখেছিল এরশাদ। "ভুল জন্ম" গানটির লেখক তরিকুল ইসলাম রূপক কিন্তু তার আরেকটি লেখা গান "পথ চলা গানটির অর্ধাংশ লেখার পর সম্পূর্ণ করতে পারেনি রূপক, তার আগেই ২০০২ সালের ১৩ই জানুয়ারী দুর্লভ "সেলেব্রিয়াল ম্যালেরিয়া"য় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন প্রতিভাবান এই গীতিকার, পরবর্তীতে "পথচলা" গানের বাকি অংশ শেষ করেন আর্টসেলের আরেক শক্তিমান লিরিসিস্ট রুম্মান আহমেদ এবং বাকি পাঁচ গান লিখেছিল রুম্মান আহমেদ ই। উল্লেখ্য, অন্যসময় অ্যালবামটি রুপককে উৎসর্গ করা হয় এবং তাঁর স্মরণে অ্যালবামের চতুর্থ ট্র্যাকের নাম "রুপক (একটি গান)" দেয়া হয়।
অন্যসময় এ্যালবামে মোট গানের সংখ্যা ১০টি যেখানে আর্টসেলের ভোকাল লিঙ্কন "রাহুর গ্রাস" গানটি লিখেছিল; "কৃত্রিম মানুষ" গানটি লিখেছিল বেজিস্ট সেজান; "অবশ অনুভুতির দেয়াল" গানটি লিখেছিল এরশাদ। "ভুল জন্ম" গানটির লেখক তরিকুল ইসলাম রূপক কিন্তু তার আরেকটি লেখা গান "পথ চলা গানটির অর্ধাংশ লেখার পর সম্পূর্ণ করতে পারেনি রূপক, তার আগেই ২০০২ সালের ১৩ই জানুয়ারী দুর্লভ "সেলেব্রিয়াল ম্যালেরিয়া"য় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন প্রতিভাবান এই গীতিকার, পরবর্তীতে "পথচলা" গানের বাকি অংশ শেষ করেন আর্টসেলের আরেক শক্তিমান লিরিসিস্ট রুম্মান আহমেদ এবং বাকি পাঁচ গান লিখেছিল রুম্মান আহমেদ ই। উল্লেখ্য, অন্যসময় অ্যালবামটি রুপককে উৎসর্গ করা হয় এবং তাঁর স্মরণে অ্যালবামের চতুর্থ ট্র্যাকের নাম "রুপক (একটি গান)" দেয়া হয়।
অনিকেত প্রান্তর (২০০৬) ঃ
১. "লীন"
২. "স্মৃতিস্মারক"
৩. "ধূসর সময়"
৪. "পাথর বাগান"
৫. "শহীদ সরণি"
৬. "ছায়ার নিনাদ" (Instrumental)
৭. "ঘুনে খাওয়া রোদ"
৮. "তোমাকে"
৯. "গন্তব্যহীন"
১০. "অনিকেত প্রান্তর"
আবারো জি-সিরিজ থেকে ১লা এপ্রিল ২০০৬ সালে আর্টসেল প্রকাশ করে তাদের দ্বিতীয় এ্যালবাম "অনিকেত প্রান্তর"। এ অ্যালবামটিও বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ২০০৬ এর সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবামগুলোর একটি হয়। ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবামটিতেও ১০টি ট্র্যাক রয়েছে। আমি ভুল না হয়ে থাকলে এই এ্যালবামের সবগুলো গান ই লিখেছে অসম্ভব রকমের প্রতিভাবান লিরিসিস্ট "রুম্মান আহমেদ" যিনি কিনা শুধু আর্টসেলের গানই লিখে গেছে। যার জন্য আমরা পেয়েছি আর্টসেলের অসম্ভব রকমের দুর্দান্ত লিরিক্স সংবলিত গান। আর্টসেলে এই মানুষটার অবদান শ্রদ্ধা কিংবা কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করি। এত আবেগ জড়ানো মোহনীয় শব্দগুচ্ছের শব্দভাণ্ডারের অলঙ্কিত লিরিক্স আর আর্টসেলের নিজস্ব ধাঁচের নিখুঁত কম্পোজিশন এই এ্যালবামের প্রত্যেকটা গানকেই অসাধারন করেছে। এই এ্যালবামের শেষ গান বা টাইটেল ট্র্যাক 'অনিকেত প্রান্তর' গানটিকে তো বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির 'জাতীয় সংগীত' বলা হয়। ‘অনিকেত প্রান্তর’ শব্দটির অর্থ ‘No mans land’ এক সাক্ষাৎকারে গানটি নিয়ে ব্যান্ডের ভোকাল ও রীফ প্লেয়ার লিঙ্কন ডি’কস্টা বলেছিলেন- "মানুষ আপাত স্বাধীন হলেও স্বাধীনভাবে সে যে তার প্রতিটি স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করতে পারে না। কেবল অনিকেত প্রান্তরে দাঁড়িয়েই তার পক্ষে নিজের স্বপ্নগুলোকে স্বপ্নে হলেও এক ধরণের বাস্তবতায় রূপ দিতে পারে। বাস্তবে হয়তো সেগুলো স্বপ্নের দলা পাকানো বাসি কবিতা, নষ্ট গান হয়েই ঝরে যায়।"
মিক্সড অ্যালবাম এ আর্টসেলের গানঃ

